বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
???????????????????????? নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : দুর্গম দ্বীপ উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’। সাগর ও নদী বেষ্টিত এ দ্বীপে প্রায় দুই লক্ষ মানুষের বসবাস। বেশিরভাগ মানুষ কৃষি ও মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল। সম্ভাবনাময়ী এ জনপদে অর্থনীতি সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুইটি বাঁধা।
একটি বিদ্যুৎ, আরেকটি যোগাযোগ। অবশেষে উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির একটি পূরণ হতে যাচ্ছে; মুজিববর্ষেই বিদ্যুতের আলোয় রাঙাবে (আলোকিত) সেখানকার মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ সরকারের এ অঙ্গীকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতেই (মুজিববর্ষ) বিদ্যুৎবিহীন এ জনপদে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পোঁছাবে।
চলতি বছরের শেষ দিকে বিদ্যুৎসেবা পাবে সেখানকার ২৯ হাজার ৫০০ পরিবার। পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা দ্বীপ উপজেলা এটি। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এর আয়তন ৪৭০ দশমিক ১২ বর্গ কিলোমিটার।
বেশিরভাগ মানুষ মৎস্য ও কৃষি পেশার সঙ্গে নিয়োজিত। কিন্তু সাগর আর নদী বেষ্টিত হওয়ায় সম্ভাবনাময়ী এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগ না থাকায় সৌর সোলার বিদ্যুৎ সেবার কারণে স্বাভাবিক জীবন ধারায় তেমন বাঁধা না আসলেও অর্থনৈতিক বিস্তারে মারাত্মক প্রভাব ফেলছিল। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগ পৌঁছাতে যাচ্ছে এ উপজেলায়।
ফলে সম্ভাবনার এ হাতছানিতে আনন্দিত উপজেলাবাসী। উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া গ্রামের চারুশিল্পী শাহ আলম বলেন, ‘রাঙ্গাবালী বিদ্যুৎ আসা মানেই সম্ভাবনার হাতছানি দেয়া। কৃষি ও মৎস্য নির্ভর মানুষসহ সকলের জন্য এটি একটি সুখবর। মুজিববর্ষকে ঘিরে এ উদ্যোগ প্রশসংনীয়।’
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসের মধ্যে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী গ্রামে ৬০ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে বিদ্যুৎ সেবা দিতে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ উপকেন্দ্র থেকে রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়নের ১৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। আর বাকি চরমোন্তাজ ইউনিয়নে ৯ হাজার এবং চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধায় আনা হবে।
জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাবুর হাট থেকে মুজিবনগর হয়ে চরকাজল-চরবিশ্বাস অতিক্রম করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তলদেশ দিয়ে দুই কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী উপজেলার গহিনখালী উপকেন্দ্রে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ আসবে। ওই উপকেন্দ্রের মাধ্যমেই রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের মানুষ বিদ্যুৎসেবার আওতায় আসবে। আর চরফ্যাশন উপজেলার নজরুলনগর হয়ে নলুয়া খাল থেকে সাড়ে ৮ শ’ মিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে লক্ষীরচর দিয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছাবে।
এছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপার চরকারফারমা থেকে আড়াই কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পৌঁছাবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গলাচিপা) প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এ উপজেলায় লাইন নির্মাণ করা হবে ১১৯৪ কিলোমিটার। উপকেন্দ্র ও পুল (খাম্বা) পরিবহণের জন্য টেন্ডার হয়ে গেছে। আমাদেরকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টার্গেট দেয়া হয়েছে, ১০০% কাজ সম্পন্ন করে একসঙ্গে বিদ্যুৎ চালু করে দেয়া হবে।
তবে প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা না হলে এ টার্গেট সম্ভব হবে। আর প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলে এক দুইমাস বেশি সময় লাগবে। ৮টি প্যাকেজের আওতায় ৬৪টি সাব প্যাকেজে ৬৪জন ঠিকাদার কাজ করবে।
প্রতি কিলোমিটার লাইনে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ হবে। এ মাসেই পুল পরিবহণ শুরু হবে। আগামী মাস থেকে পুল বানানো শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে দুর্নীতিমুক্ত বিদ্যুৎ কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমরা প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছি। কোনো রকম দুর্নীতি ছাড়া এ মুজিববর্ষে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু আমাদের অঙ্গীকার।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের জন্য বেশ কয়েকবার চিঠি লিখেছিলাম এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম।
আমাদের এমপি মহোদয়ও ডিও লেটার দিয়েছিলেন। সকলের প্রচেষ্টায় অবশেষে রাঙ্গাবালীবাসীর সময়ের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। এ বছরে মধ্যে রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ সংযোগ আসতে যাচ্ছে। এখানে বিদ্যুৎ চালু হয়ে গেলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।’
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘ইতোমধ্যে সাব স্টেশনের জন্য ডিজাইনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শিগগরই দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে। ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ কার্যক্রম শুরু করতে পারব বলে আশা করি। এ উপকেন্দ্র থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ যাবে। রাঙ্গাবালীর জন্য আপাতত ২-৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই যথেষ্ট।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর